প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘সর্বোচ্চ মর্যাদা’ দেয়। তাঁর ভাষ্য, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন এবং দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন দূতের বক্তব্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহেরই প্রতিফলন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত গরের সফরটি ছিল পরিচিতিমূলক। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী এক দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের আগ্রহ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক জনসমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন, বেইজিং, রিয়াদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ–সৌদি আরব সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা এখন ঐতিহ্যগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সৌদি আরবকে সহযোগিতা করবে। তবে এ সহযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
চীনের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট চীনা কোম্পানি নিয়ে আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ যেমন চীন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের কাছ থেকেও আরও বেশি বিনিয়োগ আশা করে। এ ক্ষেত্রে সব উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিই অনুসরণ করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে সরকার গণমাধ্যমকে অবহিত করবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!