আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিনটি রাজস্ব খাতকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে রাজস্ব ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে এ সম্মেলনে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। প্রায় দেড় হাজার অতিথির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনবিআর। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি করা হয়েছে। এতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্মেলনের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রাজস্ব সংগ্রহ, করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সেবা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন তথ্যবহুল স্টল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেবেন। শক্তিশালী, প্রযুক্তিনির্ভর ও করদাতাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।
এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘রেভিনিউ মিউজিয়াম’ প্রদর্শন করা হয়।
প্রথম সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ই-রিটার্ন, অনলাইন টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন, ই-পেমেন্ট, কাস্টমস অটোমেশন, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এবারের সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!