সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে চারজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের সাতজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত তিন বছরের একটি শিশুকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৫), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীয়ম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের চার বছরের মেয়ে খোজাইফা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পেহেলি ভৈরবী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ বালাগঞ্জ হাসপাতালে রেখেছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত ব্যক্তিদের দেখতে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চারজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং তাঁকে আইসিইউ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!