জাতীয়

সাংবাদিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট: আগ ০৮, ২০২৬ : ০৫:৪৮ এএম
সাংবাদিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সরকার মিলে একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই—এ বিষয়টি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পাবেন।

গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য। আবার স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।

গণমাধ্যমকে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সাংবাদিকতা অন্য অনেক পেশার চেয়ে আলাদা। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অনানুষ্ঠানিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তবে গণমাধ্যমের টেকসই বিকাশের জন্য অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফার সুযোগ না পেলে গণমাধ্যমশিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপনের বাজারও বড় হবে না।

বর্তমান গণমাধ্যমব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ায় মিডিয়া ইকোসিস্টেম আরও জটিল হয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়। কার্যকর সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও তা কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং ডেইলি ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিইসির সদস্যসচিব ও সময় টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!