জাতীয়

শান্তি-স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে আলেমদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: আগ ১০, ২০২৬ : ০৫:২৮ এএম
শান্তি-স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে আলেমদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম-উলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন। পাশাপাশি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলামকে এগিয়ে নেওয়ার এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের মতো এবারও দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে তারা আবারও নানা ধরনের বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

আলেম-উলামাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে একসঙ্গে কাজ করছি, দেশটাকে সঠিক রাখার চেষ্টা করছি। এখানে আমরা দুই বছর আগে যেমন একসঙ্গে কাজ করেছি, হুজুরের (আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ) দোয়া নিয়ে আমি বলতে চাই, অনুরোধ জানাতে চাই যে, আগামী দিনগুলোতেও আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে।’

কওমি মাদ্রাসার দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস

কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে দেশের সব মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের সন্তানেরা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকতে পারবে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করবে।’

ফটিকছড়িতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আসার মূল কারণ হুজুরের দোয়া নেওয়া।’

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে গুরুত্ব

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন করতে হবে।

দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোই আমাদের মূল দায়িত্ব।’

আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব নিয়েই সরকার গঠন করা হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে সরকারকে সহযোগিতা ও দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

৭ দফা দাবি

অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান আলেম-উলামা ও ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে যাত্রা করে তাঁর হেলিকপ্টার ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।

পরে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ একটি বাসে করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!