জাতীয়

রাঙ্গামাটির দুর্গম ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা

আপডেট: আগ ১১, ২০২৬ : ০৫:৩৪ এএম
রাঙ্গামাটির দুর্গম ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা

রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলায় ৩৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি বিদ্যালয় রয়েছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এসব বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ–সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিশাখার কর্মকর্তারা বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষার মানও উন্নত করা সম্ভব হবে।

চলতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে সম্মতি জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ–বিহীন বিদ্যালয়গুলোর তালিকা তৈরি করে বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিতে হবে।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন এবং প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন মূল তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।

তবে এখনো প্রস্তাবিত প্রকল্পটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) হিসেবে অনুমোদিত হয়নি।

শিক্ষায় প্রযুক্তির সুযোগ বাড়বে

জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গম বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ–সংযোগ দেওয়া গেলে শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

দুর্গম এলাকার এসব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিদ্যুৎ–সংযোগ নিশ্চিত হলে তারা দেশের অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ৫৫০টি বিদ্যালয়ে টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১৪৯টি বিদ্যালয় ই-লার্নিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুৎ–সংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের তৃতীয় পর্যায়ের একটি প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত বা বরাদ্দহীন প্রকল্প হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব প্রকল্পকে ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’ বলা হয়। এগুলো ভবিষ্যৎ প্রকল্পের নীতিগত সম্মতি বা প্রাথমিক তালিকা। পরবর্তী সময়ে অনুমোদন পাওয়া গেলে তা ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে মূল কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হলে পাঁচ বছর মেয়াদে এর বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্গম এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ–সংযোগ না থাকায় শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ–সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এসব এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলতি বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৩০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে প্রস্তাবটির বাস্তবতা যাচাই করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না, তা জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্প গ্রহণ করে এসব বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের পক্ষে মতামত দিয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!