জাতীয়

কৃষি ও মৎস্য খাত আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতা চাইলেন কৃষিমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১২, ২০২৬ : ০৫:৫১ এএম
কৃষি ও মৎস্য খাত আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতা চাইলেন কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটি, আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থান কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ রয়েছে।

সয়াবিন চাষের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের চর ও দ্বীপাঞ্চলে সয়াবিনের আবাদ সম্প্রসারণ করে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।

প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নতমানের ঘাস উৎপাদন, প্রাণীর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক ও ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

কীটনাশকের নিরাপদ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে একটি সার্টিফায়েড অর্গানিক ফার্ম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ইউএসডিএ সার্টিফায়েড অর্গানিক খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

মতবিনিময়কালে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করতে তাঁরা আগ্রহী। সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করতেও তাঁরা প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এবং মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে আরও সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমানসহ কাউন্সিলের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!