প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর সফরের বিষয়টি নির্ভর করছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে ইতিবাচক। তবে সফরের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রাধিকার বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন, নাকি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘ব্রিকস এখনো অনেক দূরে। এক মাসে অনেক কিছুই হতে পারে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। নতুন সাংবিধানিক কার্যক্রম, সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ভেতরে অনেক কর্মসূচি ও কার্যক্রম চলছে। সামনে বেশ কিছু সাংবিধানিক বিষয়ও রয়েছে। এই দিক থেকে সরকার ব্যস্ত এবং প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত।’
তবে ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে বলে জানান তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ভারত ও জাপান সফরসহ অন্যান্য দেশেও প্রধানমন্ত্রী সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
জাপান সফরের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি
প্রস্তাবিত জাপান সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, সফরের তারিখ ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। দুই দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময়ে সফরটি আয়োজন করা হবে।
শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় সম্পর্কের জট খুলতে পারে
ভারত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, দুই দেশের নেতারা যখন সরাসরি কথা বলেন এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন, তখন বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতেরও উচিত এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করা।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ঢাকার অবস্থান
ভারতে অবস্থান করে সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, যখন একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভারতের মাটিতে বসে কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করে না এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে না।’
শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাইয়ের ঘটনা এখনো বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীরভাবে রয়েছে। এ কারণে জনগণের অনুভূতির প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার সংবেদনশীল থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই এখনো মানুষের মনে জীবন্ত। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তাই সেই দিক থেকে আমাদের অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবারও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে দুই দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!