জাতীয়

এনজিও কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান তিতুমীরের

আপডেট: আগ ১৪, ২০২৬ : ০৪:৩৬ এএম
এনজিও কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান তিতুমীরের

দেশের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বিশেষ করে এনজিও কর্মীদের জন্য চালু করা ‘প্রগতি’ স্কিমে যোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সঙ্গে নিবন্ধিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২৫০টি এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ, অর্থ বিভাগ এবং বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কাঠামো, উদ্দেশ্য ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিমের গুরুত্বও ব্যাখ্যা করেন।

আলোচনায় বলা হয়, নাগরিকদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিম চালু করা হয়েছে। নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শেষে এ স্কিম থেকে আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বেসরকারি ও এনজিও খাতে কর্মরত মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি এনজিওগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যোগ্য কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি তাঁদের এ স্কিমের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বেসরকারি খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন তহবিল গঠনের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বেসরকারি ও এনজিও খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

ড. তিতুমীর আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো তাদের কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এ স্কিমের আওতায় আনার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. কে এম মামুন উজ্জামান ও ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!