জুলাই মাসে দেশে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৩৯ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রতিবেদনটিতে স্বাক্ষর করেন। পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) প্রতিবেদনটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সারা দেশের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা বেশি
বিভাগভিত্তিক হিসাবে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত ও ১৪৬ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে ১০৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন এবং আহত হয়েছেন ১২২ জন। রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৭ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৯ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন। সিলেটে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
রংপুর বিভাগে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মোট ৬৭৩টি যানবাহন জড়িত
বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৭৩টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ছিল ১৪২টি, মোটরসাইকেল ১২৪টি, বাস ও মিনিবাস ১০৬টি, সিএনজি অটোরিকশা ৫৭টি, পিকআপ ৩৫টি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ২৮টি।
এ ছাড়া ইজিবাইক ২১টি, ভ্যান ২০টি, মোটরকার ও জিপ ১৮টি, মাইক্রোবাস ৮টি, ট্রাক্টর ৮টি, অ্যাম্বুলেন্স ৫টি এবং অন্যান্য ধরনের যানবাহন ছিল ১০১টি।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত বেশি
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ ধরনের দুর্ঘটনায় ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৫৬ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন এবং অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া পিকআপ দুর্ঘটনায় ১৬ জন, ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১৫ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৪ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১২ জন, মোটরকার ও জিপ দুর্ঘটনায় ৮ জন, মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৫ জন, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় ৪ জন এবং অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯১ জন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!