জাতীয়

ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১৮, ২০২৬ : ০৫:০৫ এএম
ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ কতটা সন্তুষ্ট, সেটি জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদনসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেখা গেছে।

‘১৮০ দিনে প্রশংসিত বিভিন্ন উদ্যোগ’

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রূপরেখার আলোকে প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলার কথা তুলে ধরেন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকট তৈরি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রায় এক মাস মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পর সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যমান সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের সমস্যা সমাধানে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য স্থান নির্বাচনে জরিপ চলছে।

আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও অফশোর-অনশোর এলাকায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়াসহ আরও বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!