রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়া তুলে ধরেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
দুই প্রার্থীর লড়াই
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে ভোটে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ইসি সচিব জানান, ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোট গ্রহণ।
যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা
আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার।
মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোটদানকারী সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর। নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করার পর ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।
মূল ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মুদ্রিত থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।
ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে।
ভোট শেষেই গণনা
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যালট গণনা শুরু হবে বলে জানান ইসি সচিব। গণনার সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—এসব হিসাব করা হবে।
এরপর প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করা হবে। যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, নির্বাচনকর্তা তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করবেন।
পরে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ফলাফলের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!