জাতীয়

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ, শুরু ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে

আপডেট: আগ ২০, ২০২৬ : ০৫:০৭ এএম
৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ, শুরু ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালু বা বিদ্যমান কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউজিসি। শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

আজ বুধবার ইউজিসিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

আট ভাষার মধ্যে প্রাথমিক অগ্রাধিকার পাঁচটিতে

ইউজিসি জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা শেখানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনশক্তির চাহিদা, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ভাষা নির্বাচন করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও ভাষা নির্ধারণ করা হবে।

এ জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যসহ বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেই চাহিদার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষার ম্যাপিং তৈরি করা হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, শুধু ভাষা শেখানো নয়, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিদ্যমান ১০টি কেন্দ্রও পর্যালোচনা

ইউজিসির সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, চালু থাকা কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তৈরি করা হবে প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সফল করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলা হবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো তৈরি, আধুনিক ভাষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে সহযোগিতা করবে কমিশন। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেও ইউজিসি ভূমিকা রাখবে।

সাশ্রয়ী খরচে ভাষা শেখার সুযোগ

ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো যাতে কেবল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে ইউজিসি। শিক্ষার্থীরা যাতে সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন ভাষা শেখার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়, আগ্রহী অন্য ব্যক্তিরাও নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে এসব কেন্দ্রে ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন।

ইউজিসি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি সুষ্ঠু ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা ও পরিচালন কাঠামো তৈরি করা হবে। এতে ভাষা নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, শিক্ষার মান, অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কেন্দ্রগুলোর তদারকির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!