জাতীয়

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নীতি ও তৃণমূলের ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট: আগ ২৫, ২০২৬ : ০৫:২৩ এএম
অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নীতি ও তৃণমূলের ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে নতুন সরকারি উদ্যোগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এর শুরুটা হতে হবে দেশেই। অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে দেশের ভেতর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাস্তবতার মধ্যে আরও নিবিড় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গন্তব্য দেশগুলোর কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে দেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে শ্রমবাজারের পরিধি বাড়ানো এবং নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়োগ জালিয়াতির নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে সরকারি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকেরা অংশ নেন। তাঁরা নিজ নিজ জেলার অভিবাসন প্রবণতা, দক্ষতার ঘাটতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অনিয়মিত অভিবাসন এবং অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে সরকারের অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন।

আলোচনায় তৃণমূলের বাস্তবতা যাতে জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়, সে জন্য সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা, গন্তব্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত অভিবাসনের নতুন সুযোগসংক্রান্ত তথ্য জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।

সভায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকেরা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!