জাতীয়

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: আগ ৩০, ২০২৬ : ০৫:২৬ এএম
গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তারেক রহমান বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে থাকে।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক সময় গুমের মতো নিষ্ঠুর পথ বেছে নেওয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুম ও অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। জনপরিসরে এসব বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে।’

তিনি জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করার সাহস পাবে না।

‘গুম শুধু একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া নয়’

গুম কিংবা অপহরণকে শুধু একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গুম একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। এর ফলে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ থমকে যায়। নিখোঁজ ব্যক্তির অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের জীবন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সেখানে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশের সুযোগও থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। এরপর গুমের শিকার কিছু মানুষ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অনেকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুমের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি এবং ভুক্তভোগীদের স্মরণে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়।

এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!