জাতীয়

খেলাপি ঋণ কমছে, তবে আরও কমানো প্রয়োজন: তিতুমীর

আপডেট: আগ ৩১, ২০২৬ : ০৫:৩৬ এএম ১৩
খেলাপি ঋণ কমছে, তবে আরও কমানো প্রয়োজন: তিতুমীর

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এই হার আরও কমানো প্রয়োজন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ‘ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফ্রড ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ১১ শতাংশ। পরে ২০২৫ সালের জুনে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে দেখা যায়, এই অনুপাত বেড়ে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, আগে যারা বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সহযোগিতায় খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছিল। এমনকি ফরেনসিক অডিটে পাওয়া হিসাবও পুরোপুরি সঠিক কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিতুমীর বলেন, চলতি বছরের মার্চে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তবে খেলাপি ঋণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি যে, অন্তত এই খেলাপি ঋণের অনুপাত হ্রাস পাচ্ছে। তবে আরও বেশি হ্রাস পাওয়া দরকার।’

‘বাজারকে বাজারের মতো কাজ করতে দেওয়া হয়নি’

দেশের বাজারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বাজারকে তার নিজস্ব নিয়মে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। বাজারভিত্তিক বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল।

তিতুমীর বলেন, সম্পদের মূল্য নির্ধারণ থেকে শুরু করে জমির দাম নির্ধারণ এবং অডিট—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে এক ধরনের যোগসাজশ তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দেখেন, জমির দামের ক্ষেত্রে তাই করা হচ্ছে—যেকোনো অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের ক্ষেত্রে সার্ভেয়াররা তাই করছে। আপনার অডিটররা তাই করছেন। চার্টার্ড সেক্রেটারিরা তাই করছেন। তার মানে এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটা কলিউশন আছে।’

জালিয়াতি শনাক্তে ফরেনসিক অডিট গুরুত্বপূর্ণ

ফরেনসিক অডিটিং ও জালিয়াতি প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, কোনো বিষয়ে মধ্যস্থতা বা সালিসে যেতে হলে যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে। এসব প্রমাণই পরবর্তী সময়ে আরবিট্রেশনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘যদি মধ্যস্থতায় (আরবিট্রেশনে) যেতে হয়, তাহলে আরবিট্রেশনে যাওয়ার জন্য আমাদের আসলে দরকার হচ্ছে এই প্রমাণ। যে প্রমাণটা আপনার আরবিট্রেশনে ঠিকমতো কাজ করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!