জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

আপডেট: সেপ্টে ১৬, ২০২৬ : ০৫:১৮ এএম ১৮ ০
২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে পিডিবি

নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি), সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং জমি নির্বাচন করা হয়েছে।

পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পিডিবি।

এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

পিডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব ভবন ও জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিকের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের একটি ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার আরেকটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও যেসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে, তার মধ্যে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, পিডিবির মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু-সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা মিলবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে এবং মানুষ নিজ বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!