জাতীয়

বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

আপডেট: সেপ্টে ১৮, ২০২৬ : ০৪:৪৮ এএম
বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতিমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে। এসব প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা।

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত এই দাম আগে চুক্তি করা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র হবে।

অন্য প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ করছে। তিনটি প্রকল্পই ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে বলে জানান তিনি।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা

ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে। এ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত সক্ষমতা ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট।

এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিপিডিবি। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

তিনি জানান, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে বিপিডিবি। এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য ২০ শতাংশ

বিপিডিবি জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন কমবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!