জাতীয়

১,৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা হচ্ছে: পর্যটনমন্ত্রী

আপডেট: সেপ্টে ১৮, ২০২৬ : ০৪:৫২ এএম
১,৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা হচ্ছে: পর্যটনমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন শ্রেণির ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে নিয়ে একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছি।’

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পর্যটনের সম্ভাবনাগুলোকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব গল্প রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ, সিলেটের চা-বাগান, নদ-নদী ও জলাভূমি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং দেশের মানুষের আতিথেয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

এ সময় কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করা নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নতুন পর্যটন নীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের ২ থেকে ৩ শতাংশ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্যগুলো উচ্চাভিলাষী। তবে সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী একসঙ্গে কাজ করলে তা অর্জন করা সম্ভব।’

পর্যটন উন্নয়নকে প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও পর্যটন খাতের উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত অঙ্গীকার ছাড়া এ খাতের বিকাশ সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মেলায় ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রায় ৩০০টি স্টলে বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

মন্ত্রী মেলাটিকে বন্ধুত্ব, ব্যবসা, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, পর্যটন শিল্পের অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!