ফুটবলসহ খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, পেশা ও জীবিকা নির্বাহের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জনকারী দক্ষ খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। খেলাধুলার বিকাশের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি কর্মচারী কোয়ার্টারে সরকারি কর্মচারী সমাজকল্যাণ কেন্দ্র আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, খেলাধুলা একটি জাতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণেরা যত বেশি খেলাধুলা ও ক্রীড়াচর্চায় যুক্ত হবে, তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তত বাড়বে।
তিনি বলেন, সরকার চায় তরুণেরা খেলাধুলায় নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাক। নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে পেশাগত সুযোগ তৈরি করা গেলে খেলাধুলা জীবিকা নির্বাহের একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
খেলাধুলায় জয়-পরাজয়ের শিক্ষা
ফুটবলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় সমন্বয়, কৌশল, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ফাইনালে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মাঠে খেলোয়াড়দের গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় ও আক্রমণ পরিচালনার চেষ্টা ছিল উপভোগ্য। এ ধরনের প্রতিযোগিতা স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, খেলাধুলার শিক্ষা শুধু জয়ী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জয়কে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করার পাশাপাশি পরাজয়কে মেনে নিয়ে পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়াও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
তিনি বিজয়ী দলের পাশাপাশি পরাজিত খেলোয়াড়দেরও অভিনন্দন জানান। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, চেষ্টা করা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই একজন খেলোয়াড়কে সামনে এগিয়ে নেয়।
সমাজেও সম্প্রীতি চান মন্ত্রী
খেলাধুলার মাধ্যমে যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের চর্চা হয়, তা সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনেও জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জনকল্যাণে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সরকার এমন একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিনোদন, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতিতে শুদ্ধাচার, জনকল্যাণে অঙ্গীকার ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেন।
অংশ নেয় ১৬ দল
সরকারি কর্মচারী সমাজকল্যাণ কেন্দ্রের আয়োজনে এবারের ফুটবল প্রতিযোগিতায় ১৬টি দল অংশ নেয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় ১৮টির বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে চারটি দল চূড়ান্ত পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায়।
শনিবার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, খেলোয়াড়, আয়োজক, দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবনের পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদেরও ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করবে।
তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!