জাতীয়

পাঠ্যবই ছাপায় গুণগত মানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট: অক্টো ০৪, ২০২৬ : ০৫:২৭ এএম ৫ ০
পাঠ্যবই ছাপায় গুণগত মানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপার ক্ষেত্রে কাগজ, কালি ও ছাপাখানার মানসহ কোনো বিষয়েই ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে তুলতে চান। এ কারণে এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হয়নি।

সময়মতো মানসম্মত বই দেওয়ার আশ্বাস

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতের মতো এবারও সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এটি সারা দেশে চালু করা হবে।

শিক্ষার্থীরা যাতে কুপন ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে নিজেদের পছন্দমতো খাবার কিনতে পারে, সে জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। খাদ্যতালিকায় নতুন খাবার যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালুর পর তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

দুই জায়গায় ছাপা হবে প্রশ্নপত্র

পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়িয়ে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

পরীক্ষার নিরাপত্তা বাড়াতে আগামীতে দুই সেট প্রশ্নপত্র দুটি ভিন্ন স্থানে ছাপানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর একটি বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেসে ছাপানো হবে।

এ ছাড়া পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কারিগরি শিক্ষায় জোর

চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় নতুন কারিগরি সিলেবাসে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবে একটি টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ করার পরিকল্পনা

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ‘ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি।

এ ছাড়া কচুয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!