সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই সুন্দর একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। এ জন্য আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। এই কাজটাই শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। ফাউন্ডেশনের ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগানটি তিনি ২০০৩ সালে লিখেছিলেন। মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা সম্ভব। ফাউন্ডেশনের সদস্যদের এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করে যেতে হবে।
মানুষের কল্যাণে কাজই মূল লক্ষ্য
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি চিন্তা করেছিলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর বাবা কী কী কাজ করেছিলেন এবং সেসব কাজ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষক, শিল্প, শিক্ষা ও নারী উন্নয়নে কাজ করেছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার এসব কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনীতির বাইরেও মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য থেকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে শস্যবীজ পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামের অসহায় ও পরিশ্রমী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে। পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো কাজও সংগঠনটির কার্যক্রমের অংশ।
তারেক রহমান জানান, ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
মানুষের পাশে দাঁড়াতে অর্থের চেয়ে ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফাউন্ডেশনটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটিকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এর অনেক সদস্যকে নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় বিষয়। দেশ-বিদেশে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের সম্পদের সামান্য অংশ সমাজ, মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করলেও অনেকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘সব সময় অর্থটা মুখ্য বিষয় নয়। সবসময় সামর্থ্যও মুখ্য বিষয় নয়। সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা, ইচ্ছা এবং ইচ্ছা।’
ফাউন্ডেশনের সদস্যদের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দিন সুস্থ ও সক্ষম থাকা যাবে, তত দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষা এবং তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা, বিনা মূল্যে ঘর নির্মাণ, গবাদিপশু ও সেলাই মেশিন বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শিক্ষা বৃত্তি এবং বিভিন্ন দুর্যোগে সহায়তাসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!