COP31-এর জন্য ন্যায্য রূপান্তরের অগ্রাধিকার: জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় সংলাপ” শীর্ষক একটি জাতীয় সংলাপ আজ ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ক্লাইমেট পার্লামেন্ট, CLEAN, ReGlobal, NEXT50, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, Climate Connects এবং আমরাই আগামীর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের সংগঠন, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সংলাপে জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এ সংলাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের নগরগুলোতে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও জলাবদ্ধতাসহ জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, সহনশীল অবকাঠামো, সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব এম. ইকবাল হোসেন, এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে নগর জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও বিভিন্ন অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংলাপে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে আলোচ্য প্রস্তাবনা সমূহকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এবং আরও বলেন, বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দূরীকরণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে নাগরিক সমাজের সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের আশা ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। জলবায়ু কার্যক্রমের সুফল যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, যিনি নগর জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্টাল লাইভলিহুড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (CLEAN) প্রধান নির্বাহী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (BWGED) সদস্যসচিব হাসান মেহেদী। তাঁর বক্তব্যে নগর জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে ন্যায্য রূপান্তর, শ্রমিকদের অধিকার, জীবিকা সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার গুরুত্ব উঠে আসে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।
উন্মুক্ত গোলটেবিল আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাত, নাগরিক সমাজ, এনজিও, গণমাধ্যম ও তরুণ প্রতিনিধিরা নীতি বাস্তবায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় জলবায়ু প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
COP31 সামনে রেখে বাংলাদেশের জলবায়ুবিষয়ক অ্যাডভোকেসি জোরদার করার লক্ষ্যে সংলাপে নগর জলবায়ু সহনশীলতা, ন্যায্য রূপান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে কার্যকর সুপারিশ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনার সুপারিশগুলো নিয়ে একটি অ্যাডভোকেসি ডকুমেন্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা ও সম্পৃক্ততায় সহায়ক হবে।
No comments yet. Be the first to comment!