সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২৫ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।’
তিনি বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ও নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন এবং উপাসনা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমার সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং রংপুর অঞ্চলে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বৌদ্ধ বিহারের তালিকা চাইলেন মন্ত্রী
সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন ও চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন।
এ সময় নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর তালিকা দেওয়ার কথা জানান। তালিকা পাওয়ার পর তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!