জাতীয়

আলজেরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সুযোগ: হুমায়ুন কবির

আপডেট: অক্টো ২৩, ২০২৬ : ০৫:৩৭ এএম ২ ০
আলজেরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সুযোগ: হুমায়ুন কবির

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ফলে জ্বালানি আমদানি ও যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এর আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগও তৈরি হবে।

বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাঁকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে আলজেরিয়া। দেশটির পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করতে চায়।

বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। বাংলাদেশের সার আমদানির চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন আহমেদ আত্তাফ।

এ ছাড়া আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।

দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই মন্ত্রী। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তাঁরা জোর দেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!