জাতীয়

বিনিয়োগ আকর্ষণে একীভূত কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টো ২৬, ২০২৬ : ০৫:২০ এএম ১ ০
বিনিয়োগ আকর্ষণে একীভূত কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ সহায়ক অবকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে দেশের জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা চলছে।

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম (ডব্লিউআইএফ) ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্স’-এর একটি মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে রোববার (২৫ অক্টোবর) এসব কথা বলেন আশিক চৌধুরী।

সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর

‘জলবায়ু অগ্রাধিকার থেকে বিনিয়োগ: জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ওই আলোচনায় জলবায়ু-সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারগুলোকে কীভাবে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের উপযোগী এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্পে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

আশিক চৌধুরী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্য একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একটি কাঠামোর আওতায় আনা চ্যালেঞ্জিং প্রশাসনিক কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও পুরো প্রক্রিয়া সহজ করতে সংস্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিচ্ছিন্নতা দূর করা জরুরি।

তাঁর মতে, এ উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগ উন্নয়ন, নীতি গবেষণা, শিল্পের জন্য জমি উন্নয়ন এবং লেনদেনের কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড অবকাঠামোয় বিনিয়োগের লক্ষ্য

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে আশিক চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্রিড অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি, উপযুক্ত জমির নিশ্চয়তা এবং সুস্পষ্ট ও অনুমানযোগ্য নীতিকাঠামো প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশিক চৌধুরী আরও বলেন, উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে জমি পাওয়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্প প্রস্তুতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

সমন্বিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কাঠামো আন্তর্জাতিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাভজনক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে সম্ভাবনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য এ ফোরাম আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতি ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে কীভাবে আন্তর্জাতিক পুঁজি আকর্ষণ করা যায়, তা তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে দেশের রূপান্তর ত্বরান্বিত করাও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!