প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযুক্ত দক্ষতা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাঁরাও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকেন, সে লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) আয়োজিত বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শুধু একটি স্লোগান নয়; সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমাজের কোনো শ্রেণিকে বাদ রাখা হয়নি। সবার অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় গুরুত্ব
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যথাযথভাবে লালন-পালনের বিষয়ে অভিভাবকদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
স্মার্ট সাদাছড়ি তৈরির দাবি
কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো এবং দেশে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট সাদাছড়ি’ উৎপাদনের দাবি জানানো হয়। মন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪১ লাখ প্রতিবন্ধী নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ১৯৬৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
কর্মশালা শেষে উপস্থিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সাদাছড়ি বিতরণ করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। এ সময় ইউএনডিপি, সাইটসেভারসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং এনজিওর প্রতিনিধি, বার্ডোর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদস্য ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস--রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!