জাতীয়

বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনসহ চার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

আপডেট: নভে ০৩, ২০২৬ : ০৪:৫০ এএম ৯ ০
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনসহ চার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা এবং হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলোর কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ আইন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা আইন সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

সরকারি ক্রয় আইনে নতুন সংশোধন

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর দ্বিতীয় সংশোধনীর খসড়াও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটিতে এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

নতুন সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন

২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন।

সাধারণ ছুটির ১৫ দিনের মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাহী আদেশের ১৪ দিনের ছুটির মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে। এর মধ্যে একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।

ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদ্‌যাপনের জন্য দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির সাত দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।

হংকংয়ের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তি

বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এই চুক্তির আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধীদের আটক এবং অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!