তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে ফিরে গিয়ে কারখানায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিক ও শিল্প—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এরপর দ্রুততম সময়ে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যেসব নিরপরাধ শ্রমিক বা শ্রমিকনেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের আইনানুগভাবে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা শ্রমিকদের বন্ধু হতে পারে না। অন্যায্য কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করে ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়িয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর আশা
বৈঠকে উপস্থিত নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট বা কারখানা বন্ধের ডাক দেননি। কিছু বহিরাগত কারখানায় ঢিল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সরকার দ্রুত সেই বোর্ড গঠন করেছে।
বাবুল আক্তার বলেন, মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কোনো শ্রমিক সংগঠন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশে থাকবে না। কারখানার উৎপাদন সচল রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যৌক্তিক নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহমেদ বাবুল, স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারকসহ অন্যরা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!