জাতীয়

খাদ্য অপচয় রোধে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

আপডেট: নভে ০৫, ২০২৬ : ০৫:৩৩ এএম ৩ ০
খাদ্য অপচয় রোধে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এককভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, শিল্প ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘খাদ্য সাশ্রয় করুন, বাংলাদেশের খাদ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন: খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, উদ্যোগের ফলাফল তত কার্যকর হবে। সংলাপ শুধু আলোচনা বা মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এখান থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এমন বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যার সুফল মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হবে।

আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য অপচয় রোধ মানে শুধু খাদ্য সাশ্রয় নয়; এর সঙ্গে কৃষকের শ্রমের মর্যাদা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় জড়িত।

উৎপাদিত খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, উৎপাদক ও ভোক্তাদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী।

বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের ১৩ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়

সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন এফপিএমইউর মহাপরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম, অধ্যাপক নওশাদ আলম ও ড. এম. খালেকুজ্জামান। তাঁরা খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুসারে, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে পরিবার, খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে।

খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১২ দশমিক ৩ অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

জাতীয় সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, দেশি-বিদেশি গবেষক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!