তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলন-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ বুধবার রাজধানীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
মালিকপক্ষের নেতারা জানান, নবগঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মজুরি পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ করার জন্য একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারখানার মালিকেরা নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবেন।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের শ্রম ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রথম সভার চার দিন পর আগামী ৯ নভেম্বর বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তিতে সরকারের আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার মজুরি পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা শ্রমিক, পোশাকশিল্প ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। তাই শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ
পোশাকশিল্পের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তির চলমান উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং মজুরি-সংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার, মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা। স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে শ্রমিকদের অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ করেন।
মালিকপক্ষের নেতারা বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে মজুরি বোর্ড নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারবে। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
শ্রমিকদের জন্য চার প্রস্তাব বিকেএমইএর
এদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, যাতে মজুরি বৃদ্ধির সুযোগে বাড়ির মালিকেরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে না পারেন।
এ ছাড়া পোশাকশ্রমিকদের জন্য রেশনিং সুবিধা বা ফ্যামিলি কার্ড চালু, শিল্পাঞ্চলে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন বা ডরমিটরি নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তাঁদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!