জাতীয়

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: নভে ০৬, ২০২৬ : ০৫:১৬ এএম ৮ ০
ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশের শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য দেশের মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’

শিল্পকারখানা ধ্বংস হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা

দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানা দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। কারখানাগুলো ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না, যাতে তাঁদের নিজেদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে।

দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। এর লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা।

বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করবে সরকার। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

মোংলায় চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক

এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!