জাতীয়

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট: নভে ০৮, ২০২৬ : ০৫:৫৯ এএম ৫ ০
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচিটির লক্ষ্য, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মান উন্নত করা এবং শিশুদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। এটি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই বয়স উপযোগী একটি সহজ পাঠ বুঝতে পারে না। উচ্চমধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। গত দুই দশকে প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন অর্থায়ন শিশুদের ভালোভাবে শিখতে এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সহায়তা করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে তাদের ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মসূচির আওতায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের উপকরণ, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিও আরও শক্তিশালী করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাশমিনা রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা জরুরি। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এ কর্মসূচি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করে।

নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত বিষয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার মানও বাড়ানো হবে, যাতে শিশুরা বিদ্যালয়ে প্রবেশের শুরুতেই পড়াশোনার শক্ত ভিত্তি পায়। এ কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এ ঋণের অর্থায়ন করছে। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে ছাড়ের সুবিধা পাবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!