রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি” অনুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল, ফকির ও সাধকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান-কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হওয়ায় বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা শেষে বাউল শিল্পীদের হাতে ঈদ খরচের জন্য নগদ অর্থ তুলে দেন রেজাউদ্দিন স্টালিন, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সভাপতি বাউল শফি মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক ও লালন গবেষক সরদার হীরক রাজা। এ মহৎ উদ্যোগে অর্থ সহযোগিতা করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাউল অনুরাগী রিসালাত খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “বাউলরা মানবতা, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক। বাংলার লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে বাউল শিল্পীদের অবদান অনন্য। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “বাংলার বাউল সংস্কৃতি শুধু আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য নয়, এটি বিশ্ব সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাউল শিল্পীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সরদার হীরক রাজা। তিনি বলেন, “বাউল সংস্কৃতি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। বাউল শিল্পীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই আয়োজন সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. জাহিদুল কবীর লিটন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব আবুল কালাম, সমির বাউল, চ্যানেল এসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দ আলী আহসান লিটন, ইসলামিক টিভির স্টাফ রিপোর্টার শাহ সুফি রিপন চিশতি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বাউল, ফকির ও সাধকেরা।
অনুষ্ঠানে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকগান ও বাউল সংগীত পরিবেশিত হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকরা জানান, বাউল সংস্কৃতি সংরক্ষণ, শিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!