“এবারের ভোট, তারুণ্যের পক্ষেই হোক”—এই শ্লোগান সামনে রেখে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) অগ্রগামী ঐক্যজোটের ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও নির্বাচনী প্যানেল পরিচিতি সভা’। অনুষ্ঠানে টোয়াবের আসন্ন নির্বাচন, পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় খুলনার হোটেল সিটি ইন-এর হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের টোয়াব সদস্য, আঞ্চলিক ট্যুর অপারেটর এবং জাহাজ মালিকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম বাচ্চু।
এ ছাড়া টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের সদস্য এবং আসন্ন টোয়াব নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্যানেলের সব প্রার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ট্রিপ মেকারের স্বত্বাধিকারী হাসানুজ্জামান চৌধুরী রনি। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল ভেন্টোরা কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন টোয়াবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক (ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার) ও অগ্রগামী ঐক্যজোটের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. তাসলিম আমিন শোভন। সদস্যদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে খুলনার সঙ্গে নিজের জীবনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন তিনি।
শোভন বলেন, “নাথিং ইজ ইম্পসিবল। আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমার কর্মজীবন শুরু হয়েছে এই খুলনা শহরে মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে। তখন আমার কিছুই ছিল না। ১৯৯৫ সালে আমার বাবা মারা যান। এখানে অনেকেই আমার পরিবার ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা জানেন।”
তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ব্যক্তিগত সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে শোভন বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে খুলনা অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটনচর্চা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল যাই হোক, সুন্দরবনের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা এবং এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পেশাগতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শোভন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
তিনি জানান, ট্রাভেল টেকনোলজিকে মূলধারার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা এবং পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। এতে দেশের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে খুলনা অঞ্চলের সাধারণ ট্যুর অপারেটররা সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরাও পর্যায়ক্রমে নিজেদের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, তরুণ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই পর্যটনের নতুন বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। পরে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!