নিজস্ব প্রতিবেদক

বই থেকে ভাবনা , ভাবনা থেকে সংলাপ

আপডেট: আগ ০৮, ২০২৬ : ০৬:৩০ এএম ১০
বই থেকে ভাবনা , ভাবনা থেকে সংলাপ

কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে বইকে ঘিরে শুরু হয়েছিল একটি ছোট্ট উদ্যোগ। সেই উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় হতে হতে আজ তরুণদের মধ্যে সাহিত্যচর্চা, যুক্তিবোধ ও গভীরতর ভাবনার চর্চার একটি পরিসর তৈরি করেছে।

বই পড়ার অভ্যাসকে শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বইকে কেন্দ্র করে সমাজ, মানুষ ও সময়কে বোঝার সুযোগ তৈরি করাই হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় মোছা. তাসনিম রহমান ‘লিভ অন বুকস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন। বই নিয়ে কাজ করা দেশের শুরুর দিকের বিশেষায়িত বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। বইয়ের পর্যালোচনা, সুপারিশ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে চ্যানেলটি একটি পাঠকসমাজ গড়ে তোলে। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে বই পড়া ও সাহিত্য নিয়ে ভাবার আগ্রহও বাড়তে থাকে।

কয়েক বছর পর তাসনিম রহমান তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রেজোয়ানা আফরোজ রামিশাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘লিভ অন বুকস ফাউন্ডেশন’। শিক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল ভাবনা। বই ও জ্ঞানের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চায় ফাউন্ডেশনটি, যা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করবে, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি করবে এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের পথ দেখাবে। বর্তমানে তারা ‘নতুন করে জানি’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি সিএমজি রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ফাউন্ডেশনটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘লিভড ন্যারেটিভস’ নামে একটি আলোচনা-ভিত্তিক উদ্যোগ। সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা বইকে কেন্দ্র করে তরুণদের একত্রিত করে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১ আগস্ট ঋদ্ধি বুক ক্যাফেতে। বিভিন্ন শিক্ষাগত ও পেশাগত পটভূমি থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা সেখানে জিয়াউর রহমানের ‘সারভাইভার’ বইটি নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে আলোচনা শুধু বইয়ের গল্প কিংবা এর পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। উঠে এসেছে অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি, পরিচয় এবং শরণার্থী জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছেন, প্রচলিত নানা ধারণাকে প্রশ্ন করেছেন এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনের সম্ভাব্য পথ নিয়েও মতামত দিয়েছেন।

এমন এক সময়ে, যখন জনপরিসরের আলোচনায় বিভাজন ও মেরুকরণ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে, তখন একদল বইপ্রেমী ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছেন- বই নিয়ে কথা বলার মধ্য দিয়ে বইকে কথা বলানো। তরুণদের এমন একটি পরিসর তৈরি করে দেওয়া, যেখানে তারা সাহিত্যের মাধ্যমে জটিল সামাজিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, সেই কাজই করে যাচ্ছে ‘লিভ অন বুকস ফাউন্ডেশন’। পাশাপাশি, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের শুরুর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ বৈষম্য, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে তারা গড়ে তুলতে চায় এমন একটি প্রজন্ম, যারা শুধু চিন্তাশীল পাঠকই নয়, বরং সহমর্মী নাগরিক এবং ভবিষ্যতের ইতিবাচক পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!