পঞ্চগড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত শিক্ষকদের জন্য দুই দিনব্যাপী ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ মাস্টারক্লাস’ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
আজ শনিবার তেঁতুলিয়ার ইকো মহানন্দা কটেজে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে জেলার চার উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন গণিত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক অংশ নেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), সাজেদা ফাউন্ডেশন ও কাজী ফার্মস গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-প্রধান শিক্ষক ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে গণিত শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণিত শেখানো সহজ ও আনন্দদায়ক করার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্মের মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে খান একাডেমির প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম সচল রাখতে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি মেরামতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাউশির রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেকশনের উপপরিচালক নাহিদা পারভিন বলেন, গণিত এমন একটি বিষয়, যেখানে একটি ধারণা না বুঝলে পরবর্তী ধারণা বোঝা কঠিন। তাই গণিত শেখানোর ক্ষেত্রে বুঝে শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পঞ্চগড়ের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধরনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে খান একাডেমি বাংলাদেশের অপারেশনস লিড মো. জুনায়িদুল ইসলাম পঞ্চগড়ে কার্যক্রমের লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্যে খান একাডেমি বাংলাদেশের সিইও আজওয়া নাঈম বলেন, প্রযুক্তি-সহায়ক শ্রেণিকক্ষ তৈরিতে খান একাডেমি প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা যাতে সহজে এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি পঞ্চগড়ে কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সহায়তার জন্য কাজী ফার্মসকে ধন্যবাদ জানান।
ভজনপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের গণিতে পারদর্শী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জিসান হাসান বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায় কাজী ফার্মস। পঞ্চগড়ে তাদের একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকায় এ অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখতে পেরে তারা আনন্দিত।
মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জিন্নাত মির্জা রাত্রি বলেন, খান একাডেমির প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের শেখানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
পঞ্চগড় বিষ্ণু প্রসাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসান মো. আরিফ রায়হান বলেন, ডিজিটাল কনটেন্ট শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের সহজেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
মাউশির প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের রিসার্চ অফিসার জিসান আহমেদ বলেন, শিক্ষকরা জাতীয় উন্নয়ন ও দেশ গড়ার মূল কারিগর। বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে মাউশি সাজেদা ফাউন্ডেশন ও খান একাডেমি বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল সংস্থানগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী, সাজেদা ফাউন্ডেশনের পার্টনারশিপ ও ফান্ড রেইজিং ইউনিটের ম্যানেজার রামিযা আহমেদ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার আহমেদ আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাজেদা ফাউন্ডেশন ও কাজী ফার্মসের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং মাউশির অনুমোদনে বর্তমানে ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর ও পঞ্চগড়—এই সাত জেলার মোট ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!