স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, গুম ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরকার যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা আইনগতভাবে সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুম ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’-এর অংশ হলেও তা বিচারযোগ্য হতে হলে ‘ব্যাপক’ ও ‘পদ্ধতিগত’ হতে হয়। একক কোনো গুমের ঘটনা সেই আইনের আওতায় পড়ে না।
মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনারদের দেওয়া খোলা চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আইনটিকে ল্যাপস করানো হয়েছে। তার ভাষ্য, গুম অধ্যাদেশে পদ্ধতিগত গুমের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, যা উপেক্ষা করা হয়েছে।
তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনে তদন্ত সম্পন্ন না হলে করণীয়, জরিমানা ও তা আদায়ের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অথচ এসব বিষয় নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বৈধ আইন বাস্তবায়ন না হলে তার দায় সরকারের ওপর বর্তায়। তাই আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বিচারকদের শোকজ নোটিশের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন শিশির মনির। তার দাবি, যে আইনের আওতায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছে। ফলে ওই আইনের ভিত্তিতে শোকজ নোটিশ দেওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকা উচিত। শুধু বিচারকার্যে নয়, সব ক্ষেত্রেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন আইন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অস্পষ্টতা থাকলে অভিজ্ঞ আইনজীবী ও বিচারকদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিচার বিভাগকে হেয় করা ঠিক নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ গুম হলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সময়সীমা শেষে বেশ কিছু অধ্যাদেশ পাস হলেও কিছু রহিত ও কিছু ল্যাপস হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যাদেশ ল্যাপস হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ কমিটির আলোচনায় দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত না করারও সমালোচনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্য নেতারা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!