রাজনীতি

গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার রূপরেখা এই বাজেট: মাহদী আমিন

আপডেট: জুন ১২, ২০২৬ : ০৪:৫৫ এএম
গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার রূপরেখা এই বাজেট: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, এটি একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার অভিযাত্রার বাজেট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করেছে। তিনি এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে বলে সরকার আশা করছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমতাভিত্তিক ও সার্বজনীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হৃদরোগ, কিডনি ও চক্ষু চিকিৎসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

কৃষি খাতে সার, বীজ, সেচ ও কৃষি বীমা সহজলভ্য করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়নে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগকে বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান।

মাহদী আমিন বলেন, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করাই এই বাজেটের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের আস্থাকে ভিত্তি করে প্রণীত এ বাজেট সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!