রাজনীতি

জনগণের সমস্যা সমাধানের কার্যকর মঞ্চ হতে হবে সংসদ: শফিকুর রহমান

আপডেট: জুলা ০২, ২০২৬ : ০৪:৩৮ এএম
জনগণের সমস্যা সমাধানের কার্যকর মঞ্চ হতে হবে সংসদ: শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদকে রাজনৈতিক সংঘাতের নয়, বরং জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের কার্যকর মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে, তবে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি দায়িত্বশীল সংসদ চাই, যেখানে জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে এবং তার সমাধান খোঁজা হবে। সংসদ যেন বিনোদনের জায়গা না হয়, বরং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়।’

২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার (কালো টাকা সাদা করার) সুযোগ প্রত্যাহার এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। আমদানিকৃত সাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমাতে সরকারের আশ্বাসকেও স্বাগত জানান তিনি।

তবে বিরোধী দলের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্থবছর জুলাই–জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি–ডিসেম্বর করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে মৌসুমি বাস্তবতার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্য তৈরি হতো এবং অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি ব্যয়ের প্রবণতাও কমত।

তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ অর্থবছরের শেষ দিকে হওয়ায় অপচয়, অদক্ষতা ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর বাজেট মূল্যায়নেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বড় বাজেট প্রণয়নই মূল চ্যালেঞ্জ নয়; প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সংস্কারের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিরোধী দলের সদস্যদের বিতর্কে অধিক অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দে সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রবাসী কর্মীদের বিষয়ে তিনি বিশেষ করে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি জানান এবং রিক্রুটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, তার দল শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতি অব্যাহত রাখবে এবং সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করবে।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। মতবিনিময় সভায় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য এবং দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!