রাজনীতি

৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

আপডেট: জুলা ২১, ২০২৬ : ০৫:৫২ এএম
৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শরিক দলগুলোর মতবিনিময় ও নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে এই আয়োজন করা হয়। তাঁর মতে, এ বৈঠক সরকার ও শরিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করবে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐক্যকে এগিয়ে নেবে।

বৈঠকের পরিবেশকে আবেগঘন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময় বহু নেতাকর্মী কারাবরণ, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। সেই সংগ্রামের স্মৃতিই আলোচনায় উঠে এসেছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সরকার গঠনের পর নিয়মিত বৈঠক সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু, খাল পুনঃখনন এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি পুনরায় চালুসহ জনকল্যাণমূলক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে একটি দুর্বল অর্থনীতি ও ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর ভাষায়, তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!