রাজনীতি

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

আপডেট: জুলা ২৩, ২০২৬ : ০৫:৪৭ এএম
ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলমান হলেও সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে।

বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তবে এ সময়ে নতুন করে ধর্মভিত্তিক বিভাজন তৈরির চেষ্টা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, রাষ্ট্র সবার, তাই কোনো ধর্মাবলম্বীকে খাটো করার সুযোগ নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সব ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না; জনগণের ভোটেই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রমে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতায়ন এবং কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বরখাস্ত না করার মতো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সভায় উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!