মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা মূলত একটি ‘রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের কৌশল’। তাঁর মতে, এ ঘোষণার উদ্দেশ্য দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় ছিল। তবে গণতান্ত্রিক নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে দলটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জুলাইয়ের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আত্মগোপনে গেলেও প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলটির সমর্থকদের উপস্থিতি এখনো রয়েছে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, এটি মূলত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চাঙা করার একটি রাজনৈতিক কৌশল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের ঘটনার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বৈরাচারবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’—এই প্রস্তাবের ওপর আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্কে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!