রাজনীতি

‘খালেদা জিয়া জীবনাবসান ঘটিয়েছেন, কিন্তু পরাজয় বরণ করেননি’: রিজভী

আপডেট: আগ ১৮, ২০২৬ : ০৫:০৭ এএম
‘খালেদা জিয়া জীবনাবসান ঘটিয়েছেন, কিন্তু পরাজয় বরণ করেননি’: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার বিকেলে জিয়াউর রহমান আর্কাইভ আয়োজিত ‘মহিয়সী বেগম খালেদ জিয়া: ঐক্য, সংহতি এবং আলোকপ্রাপ্তির দ্বীপশিখা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর আইসিএমএ ভবন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি।’

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু পরাজিত হয় না—এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রেরণা, অর্জন, কৃতিত্ব, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন, শাসনকাল, নেতৃত্ব, সংগ্রাম এবং তাঁর ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের ইতিহাস অল্প কথায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। তিনি এমন বিরল মানুষদের একজন, যিনি মৃত্যুবরণ করেও বিজয়ী হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল। কারাবন্দী অবস্থায় তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। সুস্থ অবস্থায় হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করা খালেদা জিয়া পরে হুইলচেয়ারে করে বাসায় ফিরেছিলেন।

তিনি বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া তাঁদের কাছে প্রতিবাদের প্রতীক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক ছিলেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি দৃষ্টান্তের পতাকা হয়ে উঠেছিলেন।

রাজনীতিতে সংস্কৃতির গুরুত্ব

রাজনীতি ও সংস্কৃতির সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড না থাকলে নেতাকর্মীরা আলোকিত হতে পারেন না। ভালো ছবি দেখা, কবিতা ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা এবং শিল্প-সাহিত্যের প্রতি উপলব্ধি একজন রাজনীতিককে মানবিক করে তোলে।

‘যে রাজনীতিকের মধ্যে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিবোধ নেই, তিনি ভালো রাজনৈতিক নেতা হতে পারবেন না’—বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে জাসাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে দেশের খ্যাতিমান শিল্পী, পরিচালক, লেখক ও কবিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। তিনি জাসাসের সাংস্কৃতিক মান ও কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

দেশের সাংস্কৃতিক মান যাতে খর্ব না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত করতে হবে। তা না হলে সামগ্রিকভাবে সমাজ ও রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হবে না।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!