বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার সব সময় সঠিক কথা বলতেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মঈন খান বলেন, ‘সালাম তালুকদারের কাছ থেকে আমি একটি বিষয় বিশেষভাবে শিখেছি। যেটা সঠিক, তিনি সব সময় সেটাই বলতেন। অন্য কে কী ভাবল বা না ভাবল, তা তিনি কখনো বিবেচনা করতেন না। আমিও তাঁর এই গুণ অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার কথা স্মরণ করে মঈন খান বলেন, মহাসচিব হিসেবে তাঁকে দেখেই দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য ও উৎকর্ষ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাঁর কাছ থেকেই অনেকে রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন মহাসচিব সত্যিকার অর্থে কী ভূমিকা পালন করতে পারেন, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। বিভিন্ন সময়ে তিনি কীভাবে কঠিন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন, তা তিনি একাধিকবার দেখেছেন।
সালাম তালুকদারের প্রতি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মঈন খান বলেন, ‘তিনি আমাকে যেভাবে রাজনীতিতে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন, সেই ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ করতে পারব না। যখনই তাঁর কথা মনে হয়, অন্তরে এমন এক বেদনা অনুভব করি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
সালাম তালুকদারের অসুস্থতার সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, তখন তিনি সেখানে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন। সে সময় সালাম তালুকদারের মনোবল ও মানসিক শক্তি তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তাও ছিল শেখার মতো।
সালাম তালুকদারের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, তিনি মহাসচিব থাকাকালে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের নেতা-কর্মীকে টেলিফোনে কথা বলতেন। নেতা-কর্মীরা তাঁকে যে সম্মান করতেন, তার অনেক স্মৃতি এখনো মনে পড়ে।
বর্তমান রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে রাজনীতি কোন পর্যায়ে এসেছে, রাজনীতির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক কোন পর্যায়ে এসেছে, সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।’
মঈন খান বলেন, ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সালাম তালুকদারকে স্মরণ করছেন। যাঁরা জীবনে একবারও তাঁর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, তাঁরা তাঁকে কোনোদিন ভুলতে পারবেন না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, শুধু সরিষাবাড়ী বা জামালপুরের মানুষ নয়, সারা দেশের মানুষই সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক দক্ষতা ও পাণ্ডিত্যের প্রতি চিরদিন শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!