রাজনীতি

এআইকে উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মসূচি হিসেবে নিতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

আপডেট: সেপ্টে ১৪, ২০২৬ : ০৫:০৮ এএম
এআইকে উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মসূচি হিসেবে নিতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধু প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, এআই এখন পণ্য নকশা, সেবা প্রদান ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দিচ্ছে। তাই এর ব্যবহার হতে হবে নাগরিককেন্দ্রিক এবং এর মূল লক্ষ্য হতে হবে মানবকল্যাণ।

রোববার ঢাকার নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ উপলক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘এআই ফর বাংলাদেশ’স নেক্সট গ্রোথ ফেস: প্রোডাক্টিভিটি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রেডিনেস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, যেসব দেশ এআইয়ের মাধ্যমে বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারবে, ভবিষ্যতে তারাই এগিয়ে থাকবে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও উৎপাদন শিল্প, কৃষি, সরবরাহব্যবস্থা, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জনপ্রশাসনে এআই ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।

এসব খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এআইয়ের অবদানও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেধাকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর তাগিদ

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মেধাবী। তবে শুধু মেধা দিয়ে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে গবেষণায়, গবেষণাকে উদ্ভাবনে, উদ্ভাবনকে উদ্যোগে এবং উদ্যোগকে কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে রূপ দিতে হবে।

এ জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সেখানে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করবে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকেরা সমাধান তৈরি করবেন, উদ্যোক্তারা তা বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাবেন, শিল্পখাত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করবে এবং বিনিয়োগকারীরা সফল উদ্যোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবেন।

এআই ব্যবহারের সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে উল্লেখ করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাস্তবতা, তথ্যব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল থেকে এআই কৌশলকে আলাদা করা যাবে না।

ইসরায়েলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটিতে ২ হাজার ১৫০টির বেশি এআইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ছোট দেশও মেধা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পুঁজি, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম সমন্বয় করে নিজের আকারের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত প্রভাব তৈরি করতে পারে—এ অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার সুযোগ রয়েছে।

পাঠ্যক্রমে দ্রুত এআই অন্তর্ভুক্তির তাগিদ

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এআই ক্যামেরার উদাহরণ তুলে ধরে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা এআই নীতিতে সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দ্রুত এআই অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে এআই নীতি বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগেরও আহ্বান জানান বক্তারা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, মানুষের কল্যাণে এআই ব্যবহার এবং মানুষের জন্য এআইভিত্তিক সমাধান তৈরি করতে তাঁরা চান। এ ক্ষেত্রে গবেষক, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত ও ব্যবহারকারীদের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্ভাবক, এআই গবেষক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী, শিল্প ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’। দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই এ মেলার অন্যতম লক্ষ্য।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!