রাজনীতি

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ আসছে: মাহ্দী আমিন

আপডেট: নভে ০৪, ২০২৬ : ০৪:৫৬ এএম ৪ ০
ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ আসছে: মাহ্দী আমিন

ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের বিনা খরচে দেশটিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই সীমিত পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইতালির দূতাবাস ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারেরা যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা, নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং কর্মক্ষেত্রে সঠিক আচরণ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার প্রশিক্ষণের এই পূর্ণাঙ্গ মডেল জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করতে চায়।

তিনি বলেন, দক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও কম খরচে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা নতুন সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে সম্ভব হলে শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

ইতালির এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য দেশ ও খাতেও একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও এ মডেল প্রয়োগ করা সম্ভব বলে জানান মাহ্দী আমিন।

সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ইতালি সরকারের এ উদ্যোগ জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

ইতালিতে বসবাসরত আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশটির সমাজ ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের গল্প রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও যোগ্যতার অভাব নেই। মূল চ্যালেঞ্জ হলো তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

প্রবাসীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের আদলে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তরুণদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতালিয়ান ভাষা, আধুনিক কর্মদক্ষতা ও পেশাগত নিয়মকানুন শেখানোর এ কার্যক্রম সেই পরিকল্পনারই অংশ। ভবিষ্যতে ইতালিয়ানসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষাকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা শুধু নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলছেন না, বরং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশনপ্রধান ড. লরা টম বন্ডে, ইতালির উপমিশনপ্রধান ফেদেরিকো জামপারেল্লি এবং ইইউ প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জারিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!