শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে টিকটক। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে করা মামলাটি নিষ্পত্তির পথে এগোচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী, টিকটককে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ কোটি ডলার দিতে হবে। পরে আরও ১০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
মামলায় টিকটক ও এর চীনা মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, শিশুদের এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের আগে তাদের অভিভাবকদের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
অভিভাবকেরা শিশুদের হিসাব মুছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও টিকটক ও বাইটড্যান্স তা যথাযথভাবে কার্যকর করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি কোনো হিসাব ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুর বলে জানা থাকার পরও সেটি মুছে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা অগ্রাধিকার
সমঝোতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, এই সমঝোতা মার্কিন শিশু ও অভিভাবকদের জন্য বড় অর্জন। শিশুদের অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
২০২৪ সালে মামলা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার কাঠামোয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নিয়ে ওরাকল, সিলভার লেক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্সের সঙ্গে চুক্তি করে টিকটক। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের নতুন যৌথ উদ্যোগ গঠনের পথ তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে টিকটকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি এমন এক সময়ে নিষ্পত্তির পথে গেল, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে একের পর এক মামলা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বর্তমানে মেটার বিরুদ্ধেও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মামলা চলছে। ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
টিকটকের সঙ্গে এই সমঝোতার ফলে ২০২৪ সালের মামলাটি নিষ্পত্তির পথে গেলেও শিশুদের তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!