সোমবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত পুরোনো ও গভীর। আগামী দিনে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ লেখকেরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা প্রতিযোগিতায় জমা পড়ে।
বিচারকদের যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর তিনটি বিভাগে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়।
‘চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন, দ্বিতীয় মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় এ কে এম কানক পারভেজ।
‘চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ মনসুর আলম, দ্বিতীয় মো. আবু কাউসার এবং তৃতীয় মো. মনজুরুল হাসান।
‘চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটনগন্তব্য’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম, দ্বিতীয় আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় মোহাম্মদ শোয়াইব।
প্রতিযোগিতায় জমা পড়া লেখাগুলো তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল মূল্যায়ন করে। প্যানেলের সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বশিরউদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইয়ের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. আবু কাউসার স্বপন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যাবকার সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। তাঁকে সহযোগিতা করেন সংগঠনের সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার।
সহ-আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান। বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কানক পারভেজ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম প্রতিযোগিতার গুরুত্ব ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মিরাজ আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক সওদাগর মেজবাহ আলম, অ্যাবকার যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হাসান, বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ আদিল এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ড. জান্নাতুল আরিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
No comments yet. Be the first to comment!