হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাল রোগ, যা অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ জ্বর বা ভাইরাল ইনফেকশনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। ফলে অনেকেই শুরুতে এর লক্ষণগুলো গুরুত্ব দেন না। তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, হামের লক্ষণ সাধারণত কয়েকটি ধাপে প্রকাশ পায়।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর উচ্চ জ্বর দেখা দেয়, যা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)-এরও বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে থাকে কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ—যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘থ্রি সি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ পর্যায়ে অনেকের মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যেগুলোকে কপলিক স্পট বলা হয়। সাধারণত লক্ষণ শুরুর ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে এগুলো দেখা দেয়। পাশাপাশি শরীরে ক্লান্তি, ব্যথা এবং ক্ষুধামন্দাও দেখা দেয়।
এরপর শুরু হয় র্যাশের ধাপ। এই সময় মুখ থেকে শুরু করে লালচে দাগ প্রথমে চেহারায় দেখা যায় এবং ধীরে ধীরে তা ঘাড়, বুক, হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। র্যাশ সাধারণত ৪ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এ সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।
হামের কারণে কিছু জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি, কানের সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া অন্যতম।
চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম সন্দেহ হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে যদি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা থাকে বা টিকা না নেওয়া থাকে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!